Ticker

6/recent/ticker-posts

Planned Obsolescence (পরিকল্পিত অপ্রচলন)

 Planned Obsolescence হলো এমন একটি ব্যবসায়িক কৌশল, যেখানে কোনো পণ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে ডিজাইন বা বাজারজাত করা হয় যাতে নির্দিষ্ট সময় পর সেটি পুরোনো, কম কার্যকর, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা ব্যবহারকারীর কাছে আকর্ষণহীন মনে হয়। এর ফলে ভোক্তা নতুন পণ্য কিনতে উৎসাহিত হয়। সহজভাবে বললে, পণ্যটি পুরোপুরি নষ্ট না হলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যাতে আপনি নতুন মডেল কিনতে চান।

ধরা যাক, একটি কোম্পানি প্রতি বছর নতুন মডেলের স্মার্টফোন বাজারে আনল। নতুন মডেলে কিছু নতুন ফিচার যোগ করা হলো, কিন্তু আগের মডেলটি এখনও ভালোভাবে কাজ করছে। বিজ্ঞাপন, নতুন ডিজাইন এবং নতুন ফিচারের প্রচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মনে তৈরি হতে পারে যে পুরোনো ফোনটি এখন আর যথেষ্ট আধুনিক নয়। ফলে প্রয়োজন না থাকলেও অনেকেই নতুন ফোন কেনেন। এটিই planned obsolescence-এর একটি সাধারণ উদাহরণ।

এর আরেকটি ধরন হলো technological obsolescence। কোনো পুরোনো ডিভাইস হয়তো এখনও ঠিকঠাক কাজ করছে, কিন্তু নতুন সফটওয়্যার বা প্রযুক্তির সঙ্গে আর ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবার কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ বা ব্যাটারি পরিবর্তন করা কঠিন বা ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্যবহারকারী নতুন পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ব্যবসার দিক থেকে এটি কোম্পানির বিক্রি ও মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কারণ মানুষ যদি বহু বছর একই পণ্য ব্যবহার করে, তাহলে নতুন পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। কিন্তু ভোক্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে এবং পুরোনো পণ্য দ্রুত বর্জন করার ফলে electronic waste (e-waste) ও পরিবেশগত ক্ষতি বাড়তে পারে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রতিটি নতুন মডেল বাজারে আসা বা পুরোনো পণ্য ধীরে ধীরে obsolete হয়ে যাওয়া মানেই planned obsolescence নয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন, নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উন্নত ফিচার বা উৎপাদন খরচের পরিবর্তনের কারণেও নতুন পণ্য আসতে পারে।

সুতরাং, Planned Obsolescence হলো এমন একটি কৌশল যেখানে পণ্যের ব্যবহারযোগ্য জীবন, আকর্ষণ বা প্রযুক্তিগত প্রাসঙ্গিকতা কমে যাওয়ার মাধ্যমে ভোক্তাকে তুলনামূলক দ্রুত নতুন পণ্য কেনার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এটি আধুনিক ভোগবাদী অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়।

Post a Comment

0 Comments